ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ()

কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথপুরে নাম যজ্ঞানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাকির সরকার ও বিশেষ অতিথি কাজল মাজমাদার

Oplus_131072

কুষ্টিয়া সদরের হাতিয়া বৈদ্যনাথপুরে এক যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ মাতৃকা ও বিশ্ব জননীর সকল সন্তানদের মঙ্গল কামনায় গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বৈদ্যনাথপুর মহাশ্মশান প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অষ্ট্র প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে অতিথির আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপন, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মাজেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডাঃ সাদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী চলা এ আয়োজনে নামকীর্তন, পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার সমান, এবং সেই অধিকার রক্ষায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন এই দেশের নাগরিক, তেমনিভাবে আপনারাও এই দেশের সমান অধিকারভোগী নাগরিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। এই ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে।

প্রধান বক্তা কাজল মাজমাদার বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা সামাজিকভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐক্য, শান্তি ও উন্নয়ন। সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে ধর্ম যার উৎসব সবার। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যে কোন কাজ সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এছাড়া আয়োজকরা জানান, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ কামনায় প্রতিবছর এ মহানাম যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি পায় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়। এদিকে অংশগ্রহণকারী ভক্তরা বলেন, মহানাম যজ্ঞ মানুষের মনকে পবিত্র করে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরে দেশের সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।


     এই বিভাগের আরো খবর